সাতমাথায় ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ : সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি রুবেল
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাস্থ অবস্থিত শতবর্ষী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের দখলকৃত দোকানঘর মুক্ত করে আধুনিক বহুতল ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ৫দ জন দোকান ভাড়াটিয়াকে নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও তিন মাস পার হলেও তারা ঘর ছাড়েননি বলে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ব্যাংকের সভাপতি এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯১৪ সালে নিবন্ধিত ও ১৯২৮ সালে সাতমাথায় প্রতিষ্ঠিত এ ব্যাংকটি বর্তমানে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ১৯৯২ সালে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে একটি পক্ষ ব্যাংকের ভবনটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছিল।
২০০৫ সালে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নিজ খরচে মামলা পরিচালনা করে ব্যাংকের পক্ষে রায় আনেন। পাশাপাশি ঢাকার বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করে ব্যাংকটিকে গতিশীল করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া ও চুক্তি নবায়ন না করে ইচ্ছেমতো ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডে জযিয়ে ব্যাংককে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব পান। এরপর পর্ষদ সভায় পুরোনো ভবন ভেঙে সমবায়ীদের স্বার্থে ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিচতলার দোকানগুলো স্বল্পমূল্যে এবং চুক্তি ছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফলশ্রুতিতে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে ৫ ভাড়াটিয়াকে নোটিশ দিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘর ছাড়তে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা দখল ছাড়েননি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিশেষ সাধারণ সভায় তিনি চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। দোকানঘর উদ্ধার ও প্রস্তাবিত ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণে তিনি বগুড়ার প্রশাসন, পুলিশ ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান, পরিচালক আব্দুল বাসেত ও নজরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক বদিউজ্জামান বাদশা, গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ।


























