০৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া: কেসিএনএ

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: এবার ভয়ংকর ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে এসব অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা চালানো হয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শনিবার এই পরীক্ষা চালানো হয়। এর আগে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া একের পর এক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক ড্রোন, নতুন নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা ও মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

দুই কোরিয়ার মধ্যে ব্যাপক সামরিক নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় এ পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার ও সীমান্তে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচারণা আবারও চালুর অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) রোববার জানায়, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্ত করার জন্য তৈরি ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা যাচাই করাই ছিল শনিবারের পরীক্ষার উদ্দেশ্য।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, ওয়ারহেডটি সর্বোচ্চ ঘনত্বের বিস্ফোরণক্ষমতা ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে সক্ষম।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই আমরা বিভিন্ন সামরিক ইউনিটকে তাদের পরিচালনাগত লক্ষ্য ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এসব অস্ত্রের ধরন বেছে নিয়ে ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করব।’

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি চলমান উৎক্ষেপণযান থেকে কমলা রঙের আগুনের শিখা ছড়িয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু আকাশে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে একটি দ্বীপে ক্লাস্টার বোমার একাধিক বিস্ফোরণের চিত্র দেখা যায়।

শনিবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন না। তবে এর আগে গত এপ্রিলে তিনি নিজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ওই সময় তার মেয়ে জু আয়েও তার সঙ্গে ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া: কেসিএনএ

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: এবার ভয়ংকর ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে এসব অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সর্বশেষ এই পরীক্ষা চালানো হয়।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শনিবার এই পরীক্ষা চালানো হয়। এর আগে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া একের পর এক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক ড্রোন, নতুন নির্ভুল নিশানাভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা ও মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

দুই কোরিয়ার মধ্যে ব্যাপক সামরিক নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় এ পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার ও সীমান্তে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচারণা আবারও চালুর অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) রোববার জানায়, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্ত করার জন্য তৈরি ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও ধ্বংসক্ষমতা যাচাই করাই ছিল শনিবারের পরীক্ষার উদ্দেশ্য।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, ওয়ারহেডটি সর্বোচ্চ ঘনত্বের বিস্ফোরণক্ষমতা ব্যবহার করে ১২ থেকে ১৩ হেক্টর এলাকাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে সক্ষম।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই আমরা বিভিন্ন সামরিক ইউনিটকে তাদের পরিচালনাগত লক্ষ্য ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এসব অস্ত্রের ধরন বেছে নিয়ে ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করব।’

কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, একটি চলমান উৎক্ষেপণযান থেকে কমলা রঙের আগুনের শিখা ছড়িয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু আকাশে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে একটি দ্বীপে ক্লাস্টার বোমার একাধিক বিস্ফোরণের চিত্র দেখা যায়।

শনিবারের পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন না। তবে এর আগে গত এপ্রিলে তিনি নিজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। ওই সময় তার মেয়ে জু আয়েও তার সঙ্গে ছিলেন।