০৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবিকতার স্পর্শে মানুষের পাশে ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম

প্রতিনিধির নাম

মো. বেল্লাল হাওলাদার:

একজন প্রশাসকের পরিচয় শুধু তাঁর পদমর্যাদা কিংবা দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং জীবনসংগ্রামে বিপর্যস্ত মানুষকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগানোর মধ্য দিয়েও তাঁর কর্মের মানবিক পরিচয় ফুটে ওঠে।

ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। যার প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ ও দায়িত্ববোধের অনন্য প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।

তিনি ইতিমধ্যে তাঁর কাজেকর্মে দক্ষতার সাথে অসহায় ও মনবেতর মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে দেশব্যাপী নাগরিকদের প্রশংসায় প্রশংসিত হচ্ছেন।  তিনি অসুস্থ শিশুর চিকিৎসায় সহযোগিতা থেকে শুরু করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ তথা সকলের দৃষ্টিতে একজন উন্নত মানসিকতার প্রশাসক ও মানুষ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন।

২০২৬ সালের মে মাসে অসুস্থ শিশু তাজিম ও তামজিদের চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সাত মাস বয়সী তাজিমের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘটনা অসহায় ঐ পরিবারের জন্য আশার বার্তা হয়ে ওঠে। একটি শিশুর অসুস্থতা শুধু তার নিজের জীবনের সংকট নয়; পুরো পরিবারকে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

মানবিকতার বেশ কিছু উদ্যোগের মাঝে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত, নার্গিস আক্তার লিজার পাশে দাঁড়ানোর। এক পা হারানো এই নারীকে হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে মুদি দোকান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তিনি এগিয়ে আসেন। একজন অসহায় মানুষকে সাময়িক সহযোগিতা দেওয়ার চেয়ে তাঁর নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করে দেওয়া অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারে, পরিবারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে এবং সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পথ প্রশস্ত করে। নার্গিসের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ তাই শুধু সহায়তা প্রদানের ঘটনা নয়; এটি একজন মানুষকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ করে দেওয়া।

ফরিদা খানমের কর্মজীবনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার এক শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানবিক ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০০৬ সালে কর্মজীবন শুরু করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবেও তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৬ সালে ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি রাজধানী তথা ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে একটি ঐতিহাসিক অবস্থান তৈরি করেন।

তাঁর প্রশাসনিক কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের আন্তরিক উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনে। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে একজন সাধারণ মানুষ যেন অযথা হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জনবান্ধব প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, অভিযোগ জানানো এবং তা দ্রুত আমলে নেওয়া, সাথে সরকারি সম্পদ সুরক্ষার মতো বিষয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় সাদা ছড়ি বিতরণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিকার বিকাশের বিষয়েও তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানা যায়। এসব কার্যক্রম সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের প্রয়োজন ও মর্যাদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। একটি সত্যিকারের মানবিক সমাজে প্রত্যেক মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ থাকা জরুরি। প্রশাসনের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক উদ্যোগ এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মানবিক উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে তার ধারাবাহিকতা ও বাস্তব ফলাফলের ওপর। অসহায় শিশুর চিকিৎসায় সহায়তা, একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রচেষ্টা কিংবা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ—এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে তা ব্যক্তিগত সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

ফরিদা খানমের এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা সামনে আসে। তাঁর সাথে প্রশাসনের অন্য ঊর্ধ্বতনরাও নিশ্চয় উদ্বুদ্ধ হবেন বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এভাবেই যেন তাঁরা আমজনতার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতাকেও গুরুত্ব দেয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া একটি দায়িত্বশীল সমাজের পরিচায়ক।

একজন প্রশাসকের পদমর্যাদা সংশ্লিষ্ট পদাধিকারিককে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়, আর সেই দায়িত্বের মানবিক প্রয়োগ মানুষের মনে আস্থার বাতাবরণ তৈরি করে। ফরিদা খানমের মানবিক ও জনসেবামূলক উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এমন কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হোক এ প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। কারণ মানুষের কল্যাণে নেওয়া একটি কার্যকর উদ্যোগ কখনো শুধু একজন ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সমাজের অন্য মানুষকেও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। যা আমাদের আগামীর পথে এক সুদূর প্রশারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

মানবিকতার স্পর্শে মানুষের পাশে ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মো. বেল্লাল হাওলাদার:

একজন প্রশাসকের পরিচয় শুধু তাঁর পদমর্যাদা কিংবা দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং জীবনসংগ্রামে বিপর্যস্ত মানুষকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগানোর মধ্য দিয়েও তাঁর কর্মের মানবিক পরিচয় ফুটে ওঠে।

ঢাকার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। যার প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ ও দায়িত্ববোধের অনন্য প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।

তিনি ইতিমধ্যে তাঁর কাজেকর্মে দক্ষতার সাথে অসহায় ও মনবেতর মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে দেশব্যাপী নাগরিকদের প্রশংসায় প্রশংসিত হচ্ছেন।  তিনি অসুস্থ শিশুর চিকিৎসায় সহযোগিতা থেকে শুরু করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষ তথা সকলের দৃষ্টিতে একজন উন্নত মানসিকতার প্রশাসক ও মানুষ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন।

২০২৬ সালের মে মাসে অসুস্থ শিশু তাজিম ও তামজিদের চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ আলোচনায় আসে। বিশেষ করে সাত মাস বয়সী তাজিমের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘটনা অসহায় ঐ পরিবারের জন্য আশার বার্তা হয়ে ওঠে। একটি শিশুর অসুস্থতা শুধু তার নিজের জীবনের সংকট নয়; পুরো পরিবারকে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি পরিবারকে নতুন করে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

মানবিকতার বেশ কিছু উদ্যোগের মাঝে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত, নার্গিস আক্তার লিজার পাশে দাঁড়ানোর। এক পা হারানো এই নারীকে হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে মুদি দোকান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তিনি এগিয়ে আসেন। একজন অসহায় মানুষকে সাময়িক সহযোগিতা দেওয়ার চেয়ে তাঁর নিজের উপার্জনের পথ তৈরি করে দেওয়া অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারে, পরিবারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে এবং সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পথ প্রশস্ত করে। নার্গিসের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ তাই শুধু সহায়তা প্রদানের ঘটনা নয়; এটি একজন মানুষকে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ করে দেওয়া।

ফরিদা খানমের কর্মজীবনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার এক শিক্ষিত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানবিক ব্যক্তিত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০০৬ সালে কর্মজীবন শুরু করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবেও তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২৬ সালে ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি রাজধানী তথা ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে একটি ঐতিহাসিক অবস্থান তৈরি করেন।

তাঁর প্রশাসনিক কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে পরিদর্শনে গিয়ে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের আন্তরিক উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনে। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে একজন সাধারণ মানুষ যেন অযথা হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জনবান্ধব প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, অভিযোগ জানানো এবং তা দ্রুত আমলে নেওয়া, সাথে সরকারি সম্পদ সুরক্ষার মতো বিষয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তায় সাদা ছড়ি বিতরণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অধিকার বিকাশের বিষয়েও তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানা যায়। এসব কার্যক্রম সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের প্রয়োজন ও মর্যাদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। একটি সত্যিকারের মানবিক সমাজে প্রত্যেক মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ থাকা জরুরি। প্রশাসনের দায়িত্বশীল ও আন্তরিক উদ্যোগ এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মানবিক উদ্যোগের প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে তার ধারাবাহিকতা ও বাস্তব ফলাফলের ওপর। অসহায় শিশুর চিকিৎসায় সহায়তা, একজন নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রচেষ্টা কিংবা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ—এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে তা ব্যক্তিগত সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

ফরিদা খানমের এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা সামনে আসে। তাঁর সাথে প্রশাসনের অন্য ঊর্ধ্বতনরাও নিশ্চয় উদ্বুদ্ধ হবেন বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। এভাবেই যেন তাঁরা আমজনতার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতাকেও গুরুত্ব দেয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দেওয়া একটি দায়িত্বশীল সমাজের পরিচায়ক।

একজন প্রশাসকের পদমর্যাদা সংশ্লিষ্ট পদাধিকারিককে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়, আর সেই দায়িত্বের মানবিক প্রয়োগ মানুষের মনে আস্থার বাতাবরণ তৈরি করে। ফরিদা খানমের মানবিক ও জনসেবামূলক উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এমন কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হোক এ প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। কারণ মানুষের কল্যাণে নেওয়া একটি কার্যকর উদ্যোগ কখনো শুধু একজন ব্যক্তির জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সমাজের অন্য মানুষকেও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। যা আমাদের আগামীর পথে এক সুদূর প্রশারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি।