যুবদল হোক সত্য, ন্যায় ও জনকল্যাণের শক্তি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠার দিন নয়; এটি তরুণ সমাজের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার নতুন করে মূল্যায়নেরও উপলক্ষ। ২৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংগঠনটির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ, গণতন্ত্রের চর্চা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় যুবদল কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে।
বগুড়া শহর যুবদলের সভাপতি আহসান হাবীব মমি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে যুবদলকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে তরুণদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ জোরদার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। বিশেষ করে যুবসংগঠনগুলোর দায়িত্ব আরও ব্যাপক। কারণ, তরুণরাই একটি দেশের প্রাণশক্তি; তাদের চিন্তা, কর্মদক্ষতা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ওপর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অনেক কিছু নির্ভর করে। তাই যুবদলের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে তরুণ সমাজের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত যুবদলের নেতাকর্মীদের সংগঠনের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও ঘোষিত অঙ্গীকারকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত করতে হবে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব মূল্যবোধ নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক আচরণেও চর্চা করা জরুরি। গণতন্ত্রের দাবি তখনই অর্থবহ হয়, যখন মতের ভিন্নতাকে সম্মান করা হয়, প্রতিপক্ষের অধিকার স্বীকার করা হয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহনশীলতা বজায় থাকে।
যুবদলের শক্তি শুধু মিছিল, সভা-সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়া এবং অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাও সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দুর্যোগ, সংকট কিংবা সাধারণ মানুষের বিপদের সময় নেতাকর্মীদের পাশে পাওয়া গেলে সংগঠনের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠনের ভাবমূর্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং ত্যাগ, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক সংগঠন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে। যুবদলের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীর উচিত নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই আস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করা।
বর্তমান সময়ে তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। এসব ক্ষেত্রে তরুণদের সমস্যা ও প্রত্যাশা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত কর্মসূচি, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবদল তরুণ সমাজের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
আহসান হাবীব মমি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বার্তায় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আহ্বানের তাৎপর্য এখানেই যে, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রকৃত শক্তি শুধু তার সাংগঠনিক ব্যাপ্তিতে নয়; বরং মানুষের অধিকার রক্ষা, জনস্বার্থে কাজ করা এবং নৈতিক অবস্থান ধরে রাখার সক্ষমতায় নিহিত।
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রত্যাশা—সংগঠনটি সত্য, ন্যায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণের প্রশ্নে আরও দৃঢ় হবে। তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের আস্থা অর্জন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই যুবদল তার আদর্শিক অঙ্গীকারকে অর্থবহ করে তুলতে পারে।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার হোক—ক্ষমতা বা ব্যক্তিস্বার্থ নয়, মানুষের অধিকার ও কল্যাণই হবে রাজনীতির প্রধান বিবেচনা। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থেকে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় সংগঠনটি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।
লেখক:
আহসান হাবীব মমি, সভাপতি, বগুড়া মহানগর যুবদল





















