হুট করে এনসিপি ছাড়িনি বললেন সামান্তা
যমুনা নিউজ বিডি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগ করা যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জানিয়েছেন, দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি তিনি আকস্মিকভাবে নেননি। পদত্যাগের ঘোষণার পর অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের ভেতর থেকে যেমন চাপ ছিল, তেমনি বাইরের বিভিন্ন পক্ষও তাঁকে সেদিকে ঠেলেছে।
সামান্তার ভাষ্য, এনসিপি তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে একটি প্রথাগত দলে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক বছর দলের ভেতরে থেকে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত বদলানোর মতো কার্যকর কোনো ফোরাম না থাকায় তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর কথায়, ‘দলের হাত ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করা, এটার পক্ষপাতি আমি কখনোই ছিলাম না।… কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমার যতটুকু সাধ্য, সামর্থ্য, শক্তি ছিল, ততটুকু আসলে ফুরিয়েছে এই পার্টিকে আসলে ওই পথ থেকে টেনে বের করে আনার জন্য।’
সিদ্ধান্তটি যে তাঁর জন্য সুখকর ছিল না, সে কথাও জানান সামান্তা। এনসিপি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি শুরু থেকেই যুক্ত ছিলেন। দল প্রতিষ্ঠার আগে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আর সেই নাগরিক কমিটিই এনসিপির ভিত্তি। তাঁর মতে, ওই ইতিহাস বাদ দিলে দলটির অস্তিত্বের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘নিজের হাতে গড়ে তোলা দল কেউই ছাড়তে চায় না, এটা আসলে আমার জন্য কোনো সুখকর অনুভূতি না। আর প্লাস এনসিপি তো আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।’
দলের সঙ্গে সামান্তার মতবিরোধ প্রকাশ্য হয়ে ওঠে গত নির্বাচনের আগে, এনসিপি যখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বাঁধে। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পদত্যাগে এত দেরি কেন হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও যুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা যত দিন ছিল, তত দিন দলকে ভুল পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। পদত্যাগ তাঁর কাছে কোনো সমাধান নয়। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী পদত্যাগের কথা ভাবলে তাঁদেরও তিনি নিরুৎসাহিত করেছেন। কিন্তু দল পুনর্গঠনের পর ভিন্নমত তুলে ধরার মতো ফোরাম আর অবশিষ্ট ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, ‘এখন যখন আর কোনো ফোরাম নেই, তো মানে আমি আসলে কোথায় ফাইটটা করব?’
আগে সাধারণ সভা ও নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখার সুযোগ ছিল বলে জানান সামান্তা। রাজনৈতিক পর্ষদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেছেন। কিন্তু তাঁর তোলা আপত্তিগুলোকে দল আর ভুল বলে মনে করেনি। এখন সাধারণ সভা কবে হবে, আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
কমিটি পুনর্গঠন ও পদ বণ্টন নিয়ে তাঁর অভিযোগ বিস্তর। সামনে কাউন্সিল আয়োজনের কথা থাকলেও তার আগে আহ্বায়ক কমিটিতে কেন বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘একদম টপ টু বটম পুরোটাই পরিবর্তন করে ফেলা হলো, কীসের ভিত্তিতে পরিবর্তন করে ফেলা হলো? কোনো ধরনের জবাবদিহিতা নেই।’ তাঁর দাবি, ১৯৬ সদস্যের কমিটিতে ১৬০ জনকে পদায়ন করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না। কেউ কেউ গুরুত্ব হারিয়েছেন, কেউ নতুন গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন, অথচ যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড কখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক পর্ষদ নিজেদের বিবেচনায় পদ বণ্টন করেছে। সামান্তার মতে, কাউকে দায়িত্ব দিতে হলে তার ক্রাইটেরিয়া প্রকাশ্য থাকা উচিত। নিজের উদাহরণও টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে কেন যুগ্ম আহ্বায়ক করা হলো, সদস্য কেন নয়, আবার সিনিয়র বা জুনিয়র পদই বা কেন নয়। একই প্রশ্ন সব পদের ক্ষেত্রেই করা যায়। এমনকি যিনি আহ্বায়ক হয়েছেন, তিনি কোন মানদণ্ডে হলেন, সেটিও স্পষ্ট নয়, কারণ তিনি নির্বাচিত নন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা এই দল পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বদলের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে কি না, জানতে চাইলে সামান্তা বলেন, দলটি শেষ পর্যন্ত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার দিকেই ঝুঁকেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ আচরণের তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এনসিপি প্রস্তাব দিয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচনে বিরোধী দলের মতামত থাকবে। এর জন্য সাত বা আট সদস্যের একটি ফোরামের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থাকবে। অথচ নিজেদের দলের ভেতরে কমিটি পুনর্গঠনের সময় বিরোধী মতের প্রতি সেই মনোভাব দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘লাইক মাইন্ডেড পিপল দিয়ে গণতন্ত্র এস্টাব্লিশ করা যায় না, বিরোধী মতকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র এস্টাব্লিশ করতে হয়।’ ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে এনসিপি একই অসংগতি দেখাতে পারে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
নেতৃত্ব ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছিল কি না, এ প্রশ্নে সামান্তার মত, বিষয়টিকে শুধু একজনের নেতৃত্বের সমস্যা হিসেবে দেখা সরলীকরণ হবে। বরং দলের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তার আধিপত্য তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যায়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক ধারার বিপরীতে তিনি ও নাহিদা সারোয়ার নিভা অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে অন্যদের একমত হতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘পার্টির মধ্যে একটা প্রচণ্ড প্রেশার আছে যে একমত হওয়ার, বাধ্য করা হবে একমত হতে।’ জোট গঠন ও দলের রাজনৈতিক নীতি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ভিন্নমত দিয়েছিলেন। সংসদে এনসিপির এক সংসদ সদস্য প্রত্যেক উপজেলায় দলীয় কার্যালয় স্থাপনের কথা বললে তারও বিরোধিতা করেছিলেন। নেতৃত্ব এসব বিরোধিতা সহজভাবে নেয়নি। দায়িত্ব বণ্টনে গোপন ব্যালট ও অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়ার চর্চা থাকায় নেতাকর্মীরা নিজেদের পদ নিশ্চিত হওয়ার আগে ভিন্নমত প্রকাশ করতে চাইতেন না বলেও জানান তিনি।
নারীদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও পরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তাঁদের মতামত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। জোট গঠনের সিদ্ধান্তের সময় দলের রাজনৈতিক পর্ষদে সদস্য ছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে তিনজন নারী, তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিভা ও তিনি নিজে, বাকি সাতজন পুরুষ। তিন নারী সদস্যই জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এই আপত্তিকে নারীদের একটি বৃহত্তর অংশের মতামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সামান্তা বলেন, ‘যখন আমরা ৩ জন নারী একই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছি, আমাদের কথাটাকে নারী সমাজের একটা বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব এবং কণ্ঠস্বর হতে পারে, ৫০ শতাংশ মানুষের কণ্ঠস্বর হতে পারে, এটার অর্থে বিবেচনায় করা হয়নি।’ তিনি জানান, ওই সিদ্ধান্ত এনসিপির ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গেও মেলেনি। পরে তাঁদের বলা হয়, তাঁরা ওই ফোরামে নারী হিসেবে ছিলেন না, নিজ নিজ যোগ্যতায় ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তাঁর মত। তাঁর মূল্যায়ন, ‘এটা একটা পুরুষতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, নারী বনাম পুরুষ হয়ে গেছে এটা এবং আমাদের কণ্ঠস্বরকে নারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।’
জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করতে গিয়ে একঘরে হয়ে পড়েছিলেন কি না, এ প্রশ্নে সামান্তা বলেন, তাঁর আপত্তিকে শুধু জামায়াতবিরোধিতা হিসেবে দেখলে বিষয়টি ঠিকভাবে বোঝা যাবে না। তাঁর যুক্তি, সংস্কারপন্থি নয় এমন পুরোনো দলের সঙ্গে নতুন দলের জোট করা উচিত নয়, কারণ তাতে নতুন দলের সংস্কারের রাজনীতির সুযোগ সংকুচিত হয়। তিনি বলেন, ‘পুরোনো দলের স্ট্রাকচার আছে এমন কোনো দলের সাথে নতুন দলের স্ট্রাকচার একসাথে জোট হতে পারে না।’ এই অবস্থানের কারণে দলের ভেতরে তিনি চাপে পড়েছিলেন এবং বিভিন্ন সভায় তাঁর পক্ষে কথা বলার লোক কমে গিয়েছিল। একটি সাধারণ সভায় কমিটি পুনর্গঠনের বিরোধিতায় তাঁদের প্রস্তাব ৭১-১৫ ভোটে হেরে যায়, আর ওই ১৫টি ভোট পাওয়ার কারণেও তাঁকে অসন্তোষের কথা শুনতে হয়েছে। সামান্তার ভাষ্য, ‘আমাকে বলা হয়েছে, আপনি কি থামবেন, নাকি আপনাকে বহিষ্কার করব, এ ধরনের কথাও বলা হয়েছে। তবে একঘরে হয়ে পড়ার চেয়েও বড় হতাশার বিষয় হলো, এত চাপের মধ্যেও দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে না পারা।’
জামায়াত সম্পর্কে নিজের মূল্যায়নও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো দলের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিচয় বুঝতে হলে তার গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র ও কার্যক্রম দেখতে হয়, শুধু নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেই একটি দলকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রকল্পের ধারক বলা যায় না। সামান্তার দাবি, জামায়াতের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র অনুযায়ী তাদের উদ্দেশ্য এক ধরনের ধর্মীয় শাসন কায়েম করা। গণতন্ত্রকে তারা কীভাবে দেখে, তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তিনি জামায়াতের চূড়ান্ত রাষ্ট্রপ্রকল্পকে ‘ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ’ ও সামাজিক ফ্যাসিবাদের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া জামায়াতের আসল চরিত্র নয়, সময়ে সময়ে তাদের এটি ধারণ করতে হয়। অতীতের বিভিন্ন সময়ে ইস্যুভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেওয়াকে তিনি তাদের ‘সারভাইভাল টেকনিক’ বলে বর্ণনা করেন। তবে যাঁরা এনসিপিকে জামায়াতের ‘বি টিম’ বলেন, তাঁদের সঙ্গে সামান্তা একমত নন। তাঁর মতে, দলগুলোর অবস্থান ও আদর্শ বিশ্লেষণ না করে এমন পরিচিতি দিলে রাজনৈতিক আলোচনা দুর্বল হয়, মিল-অমিল যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা দরকার।
এনসিপির নেতৃত্ব জোটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করলে ফিরবেন কি না, এ প্রশ্নে সামান্তা বলেন, দলটি তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রমের ফল এবং তিনি কখনোই ছাড়তে চাননি। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়া দলের পক্ষে পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশে এরকম কোনো উদাহরণ নেই, আমি পৃথিবীতেও এরকম কোনো উদাহরণ দেখিনি, একবার পুরনো সিস্টেমের মধ্যে ফাংশন করে, পরে সে বিপ্লবী হয়ে গেছে।’ তাই এনসিপি আগের অবস্থানে ফিরবে, এমন আশা আপাতত তিনি দেখছেন না। তবে দলটির প্রতি তাঁর শুভকামনা আছে।
নতুন দল গঠনের বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না সামান্তা। তিনি জানান, পুরোনো দলগুলোকে সংস্কার করে নতুন ধরনের রাজনীতি করতে বাধ্য করাই তাঁর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ, আর এ ক্ষেত্রে জনগণের চাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার ও ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সাংগঠনিক ও আদর্শিক কাঠামো কেমন হবে, তার সব উত্তর তাঁর কাছে নেই। আগামী দুই-তিন মাস তিনি নতুন ও পুরোনো দল, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, এমনকি এনসিপির সঙ্গেও আবার বসতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘আমার এখন পথ ওপেন, আমি সবার সাথেই কথা বলতে চাই।’ এরপর পরিস্থিতি বুঝে নিজের ভূমিকা ঠিক করবেন বলে জানিয়ে সামান্তা বলেন, ‘আমি হুট করে কোনোকিছুই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতি না, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হুট করে নিইনি।’






























