০৮:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ বিরতির পর সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর তিনটি জাহাজ আট শতাধিক পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জাহাজ তিনটি হলো—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ চালু হয়। তবে প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের অনুমতি মেলে।

জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করবে। অনুমোদিত তিনটি জাহাজে একসঙ্গে ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং সেন্টমার্টিন থেকে বেলা আড়াইটায় ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফিরবে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ছাড়বে এবং দ্বীপ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেরার উদ্দেশে রওনা দেবে।

সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে রাতেও অবস্থান করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি পাবেন।

এ জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি দ্বীপ ভ্রমণে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুলে দেওয়া হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ।

দ্বীপের সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। একই সঙ্গে সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতে নতুন করে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার পাশাপাশি দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ১২:৫০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ বিরতির পর সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

আপডেট সময় : ১২:৫০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর তিনটি জাহাজ আট শতাধিক পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। জাহাজ তিনটি হলো—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সুযোগ চালু হয়। তবে প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের অনুমতি মেলে।

জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করবে। অনুমোদিত তিনটি জাহাজে একসঙ্গে ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাবে এবং সেন্টমার্টিন থেকে বেলা আড়াইটায় ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে ফিরবে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ছাড়বে এবং দ্বীপ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেরার উদ্দেশে রওনা দেবে।

সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে রাতেও অবস্থান করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি পাবেন।

এ জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি দ্বীপ ভ্রমণে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুলে দেওয়া হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। এ ছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও নিষিদ্ধ।

দ্বীপের সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। একই সঙ্গে সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতে নতুন করে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার পাশাপাশি দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।