০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি:  কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরু, আর সাইমন হার্মারের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধস। দুই বোলারের নৈপুণ্যে কেপ টাউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে প্রায় ১১ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে প্রোটিয়ারা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) কেপ টেস্টের শেষ দিনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া । ফলে ১৭৬ রানের বড় জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিনের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হেনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধসের সূচনা করেন কাগিসো রাবাদা। পরে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে বাকি ব্যাটারদের একের পর এক সাজঘরে ফেরান সাইমন হার্মার।

প্রথম ইনিংসে একটি উইকেট পাওয়া রাবাদা দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন তিনটি।
সফরকারীদের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। এই ইনিংসেই টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার।

অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া হার্মার দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬ রান খরচায় তুলে নেন ৬ উইকেট। টেস্টে এটিই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।
এর আগে গত বছর গুয়াহাটিতে ভারতের বিপক্ষে ৩৭ রানে ৬ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং।

এক টেস্টে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেন হার্মার। কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম স্পিনার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের তৃতীয় বলেই ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে দেন রাবাদা। পরের বলেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে সফরকারীদের চাপে ফেলেন তিনি।

পরে ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে নিজের ৩৫০তম টেস্ট উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।

এরপর জশ ইংলিস রানআউট হলে আরও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হার্মারের জোড়া আঘাতে অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলি ফিরলে ৪৬ রানেই ৬ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

একপর্যায়ে প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১০৫ বল স্থায়ী ৪৫ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় কিছুটা বিলম্বিত করেন তারা। তবে হার্মারের বলে কামিন্স এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর নিজের পরের ওভারেই জশ হেইজেলউডের স্টাম্প ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান হার্মার।

এই জয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়াকে দুই নম্বরে নামিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে প্রোটিয়ারা।

অন্যদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও পরিবর্তন এসেছে। সিরিজ শুরুর আগে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। তাদের জায়গায় শীর্ষে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সিরিজজুড়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন মার্কো ইয়ানসেন। দুই ফিফটিতে ১৯৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১৩ উইকেট।

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৭:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

আপডেট সময় : ০৭:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি:  কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে শুরু, আর সাইমন হার্মারের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধস। দুই বোলারের নৈপুণ্যে কেপ টাউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে প্রায় ১১ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে প্রোটিয়ারা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) কেপ টেস্টের শেষ দিনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া । ফলে ১৭৬ রানের বড় জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিনের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হেনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধসের সূচনা করেন কাগিসো রাবাদা। পরে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে বাকি ব্যাটারদের একের পর এক সাজঘরে ফেরান সাইমন হার্মার।

প্রথম ইনিংসে একটি উইকেট পাওয়া রাবাদা দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন তিনটি।
সফরকারীদের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। এই ইনিংসেই টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার।

অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া হার্মার দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬ রান খরচায় তুলে নেন ৬ উইকেট। টেস্টে এটিই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং।
এর আগে গত বছর গুয়াহাটিতে ভারতের বিপক্ষে ৩৭ রানে ৬ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং।

এক টেস্টে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্বও অর্জন করেন হার্মার। কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম স্পিনার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের তৃতীয় বলেই ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে দেন রাবাদা। পরের বলেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে সফরকারীদের চাপে ফেলেন তিনি।

পরে ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে নিজের ৩৫০তম টেস্ট উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।

এরপর জশ ইংলিস রানআউট হলে আরও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। হার্মারের জোড়া আঘাতে অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলি ফিরলে ৪৬ রানেই ৬ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

একপর্যায়ে প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১০৫ বল স্থায়ী ৪৫ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় কিছুটা বিলম্বিত করেন তারা। তবে হার্মারের বলে কামিন্স এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর নিজের পরের ওভারেই জশ হেইজেলউডের স্টাম্প ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান হার্মার।

এই জয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর প্রথমবারের মতো টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়াকে দুই নম্বরে নামিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে প্রোটিয়ারা।

অন্যদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলেও পরিবর্তন এসেছে। সিরিজ শুরুর আগে শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। তাদের জায়গায় শীর্ষে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সিরিজজুড়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন মার্কো ইয়ানসেন। দুই ফিফটিতে ১৯৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১৩ উইকেট।

তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।