০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুরোধ মালিকপক্ষের

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: পোশাকশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি নিয়ে শিল্পাঞ্চলে চলমান অসন্তোষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাদের বক্তব্য, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনার ওপরও জোর দিয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

তিনি জানান, আগে প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পরবর্তী পাঁচ বছর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচ বছরের সময়সীমা কমিয়ে তিন বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফজলুল হক বলেন, আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তাই বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, বরং মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।

শ্রমিকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি কারখানাগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেতন বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক হলেও সেই বাড়তি ব্যয় বহন করার সক্ষমতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন

শ্রমিকদের দুর্ভোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়া প্রয়োজন। সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধিরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা উচিত।

শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ফজলুল হক। তাঁর ভাষ্য, উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে।মানচিত্র দেখুন

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট দাবি এবং এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন ফজলে শামীম এহসান।

সব মিলিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের বক্তব্য হলো, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মজুরি বোর্ডে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুরোধ মালিকপক্ষের

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: পোশাকশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবি নিয়ে শিল্পাঞ্চলে চলমান অসন্তোষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তাদের বক্তব্য, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

একই সঙ্গে বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনার ওপরও জোর দিয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। এ জন্য মজুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

তিনি জানান, আগে প্রতি পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পর্যালোচনার বিধান ছিল। ২০২১ সালে সর্বশেষ মজুরি বোর্ড গঠনের সময় পরবর্তী পাঁচ বছর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচ বছরের সময়সীমা কমিয়ে তিন বছর করে এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের অনুকূলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফজলুল হক বলেন, আগামী জানুয়ারিতে তিন বছরের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তাই বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি মিছিল বা আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, বরং মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত।

শ্রমিকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি কারখানাগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেতন বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক হলেও সেই বাড়তি ব্যয় বহন করার সক্ষমতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে কি না, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন

শ্রমিকদের দুর্ভোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সব সমস্যার সমাধান নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়া প্রয়োজন। সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের প্রতিনিধিরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা রাখা উচিত।

শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ফজলুল হক। তাঁর ভাষ্য, উত্তরা এলাকায় আট থেকে ১০ দিন আগেই বিচ্ছিন্ন মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের কিছু পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তাই চলমান আন্দোলনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে।মানচিত্র দেখুন

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকদের আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট দাবি এবং এর পেছনের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন ফজলে শামীম এহসান।

সব মিলিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের বক্তব্য হলো, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মজুরি বোর্ডে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।