০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি

প্রতিনিধির নাম

ষ্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে র‌্যালিটি রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।

কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে আসেন। তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে এ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। রাজধানীর নির্ধারিত সড়কগুলো পেরিয়ে এটি গিয়ে থামে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। পুরো শোভাযাত্রা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য দলের পক্ষ থেকে জোরালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় চলাচলের নিয়ম ও নিয়মশৃঙ্খলা ধরে রাখতে সচেষ্ট আছেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবীরা।

অপরদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের পুরো এলাকায় কড়া নজরদারিতে রয়েছে যাতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৭৫ সালের এ দিনে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেনাবাহিনীর ভেতর ও বাইরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। ৬ নভেম্বর তিনি বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। সেদিন রাতে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে বন্দি অবস্থায় থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। এই ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির র‌্যালিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি

আপডেট সময় : ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ষ্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই উপলক্ষে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। র‌্যালিতে অংশ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে র‌্যালিটি রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।

কর্মসূচি উপলক্ষে নয়াপল্টনে সকাল থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। খণ্ড-খণ্ড মিছিল নিয়ে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে আসেন। তাদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

শোভাযাত্রার শুরুতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে এ সুসজ্জিত শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। রাজধানীর নির্ধারিত সড়কগুলো পেরিয়ে এটি গিয়ে থামে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। পুরো শোভাযাত্রা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য দলের পক্ষ থেকে জোরালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় চলাচলের নিয়ম ও নিয়মশৃঙ্খলা ধরে রাখতে সচেষ্ট আছেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবীরা।

অপরদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের পুরো এলাকায় কড়া নজরদারিতে রয়েছে যাতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ১৯৭৫ সালের আজকের দিনে সিপাহী-জনতার বিপ্লবে দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে গিয়েছিল। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৯৭৫ সালের এ দিনে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সেনাবাহিনীর ভেতর ও বাইরে অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ তার অনুসারী সেনা সদস্যদের নিয়ে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করেন। ৬ নভেম্বর তিনি বঙ্গভবনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। সেদিন রাতে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সেই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দিয়ে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে বন্দি অবস্থায় থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থান ঠেকাতে গিয়ে ৭ নভেম্বর সকালে কয়েকজন অনুসারীসহ প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ। এই ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে অভূতপূর্ব এক সংহতির নজির সৃষ্টি করে।