০৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ওম্যান লিডারশিপ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, নারীর অগ্রগতি শুধু কতজন নারী শীর্ষ পদে পৌঁছেছেন, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং আরও কত নারী নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারছেন, সেটিই প্রকৃত অগ্রগতির মাপকাঠি।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শোর অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও মার্কিন দূতাবাস।

জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁদের একটি বড় অংশ এখনো অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে পারছেন না। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব নারীদের অগ্রগতির পথে বড় বাধা।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার এবং উচ্চশিক্ষায় নারীদের কম অংশগ্রহণ উদ্বেগের বিষয়। তাই শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের জন্য ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, আয়, সঞ্চয় ও নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করে। এ ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর ৮০ শতাংশই নারী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতায় নারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানান জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ, দক্ষতা অর্জন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ বাড়াতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, এফআইসিসিআই সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী, মার্কিন দূতাবাসের অ্যাক্টিং ডেপুটি চিফ অব মিশন তৃশিতা মোওলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ওম্যান লিডারশিপ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, নারীর অগ্রগতি শুধু কতজন নারী শীর্ষ পদে পৌঁছেছেন, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং আরও কত নারী নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারছেন, সেটিই প্রকৃত অগ্রগতির মাপকাঠি।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ইউএস ট্রেড শোর অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও মার্কিন দূতাবাস।

জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী হলেও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁদের একটি বড় অংশ এখনো অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত হতে পারছেন না। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার সীমাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব নারীদের অগ্রগতির পথে বড় বাধা।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার এবং উচ্চশিক্ষায় নারীদের কম অংশগ্রহণ উদ্বেগের বিষয়। তাই শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের জন্য ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, আয়, সঞ্চয় ও নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করে। এ ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর ৮০ শতাংশই নারী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতায় নারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানান জুবাইদা রহমান। তাঁর মতে, নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ, দক্ষতা অর্জন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ বাড়াতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, এফআইসিসিআই সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী, মার্কিন দূতাবাসের অ্যাক্টিং ডেপুটি চিফ অব মিশন তৃশিতা মোওলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।