বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজারে ধস, দুই টাকা কেজি চিচিঙ্গা! হতাশ কৃষক
ষ্টাফ রিপোর্টার: সবজি উৎপাদনে সারাদেশে পরিচিত বগুড়া। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক মাস আগে থেকেই উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। তবে ফলন ও সরবরাহ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি ক্রেতা। ফলে উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম সবজির মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে দেখা দিয়েছে দরপতন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফুলকপি, মুলা, শিমসহ বিভিন্ন সবজির দাম কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। এমনকি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই টাকা কেজি দরে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাজারো কৃষক, ক্রেতা ও বিক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মহাস্থান হাট। হাটের বিভিন্ন স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। তবে বাজারে সবজির আমদানি বেশি থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বাধ্য হয়েই কম দামে সবজি বিক্রি করছেন কৃষকরা।
হাটে বর্তমানে চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে দুই টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া করলা এখন ৩০ টাকা, ৬০ টাকার ফুলকপি ২০ টাকা, ৩০ টাকার মুলা ৭ টাকা এবং ১৫০ টাকার শিম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
কৃষকরা জানান, এবার আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে বেশি সবজি বাজারে আসায় দাম কমে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও উঠছে না। বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতেই সবজি বিক্রি করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হলেও লোকসান এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তাঁরা।
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যাপারীরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় কম দামে কিনতে পারছেন তাঁরা। পরে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় এসব সবজি বিক্রি করে কিছুটা বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁদের কাছে কম দামে কেনাকাটা স্বস্তিদায়ক হলেও কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন।
মহাস্থান হাটের ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ হাট থেকে সবজি কিনে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছেন। কাঁচামালের ব্যবসায় লাভ-লোকসান নিত্যদিনের ঘটনা। লাভ হলে যেমন ভালো লাগে, তেমনি লোকসান হলে কষ্ট হয়।
জেলা কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বগুড়া জেলায় প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেড়েছে। মহাস্থান হাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
স্থানীয় কৃষকদের ধারণা, ব্যাপক উৎপাদনের কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। তবে এত চাহিদা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজি পাঠানোর পরও হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। একদিকে কম দামে সবজি কিনে স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতা ও ব্যাপারীরা, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ না ওঠায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।




























