০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করতোয়া নদী খননের মধ্য দিয়ে বগুড়ার মানুষ নতুন ও রূপান্তরিত এক শহর দেখতে পাবেন – পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

প্রতিনিধির নাম

ষ্টাফ রিপোর্টার: করতোয়া নদী খননের মধ্য দিয়ে বগুড়ার মানুষ নতুন ও রূপান্তরিত এক শহর দেখতে পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি জানিয়েছেন, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদীর খননকাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া মহানগরের এসপি ঘাট এলাকায় করতোয়া নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখননের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদী এবং সংশ্লিষ্ট খাল খননের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২৯৪ কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হবে। প্রথম ধাপে ৬ কিলোমিটার খননকাজের মাধ্যমে প্রকল্পের সূচনা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরে আসবে। পাশাপাশি বগুড়া মহানগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, করতোয়া নদীর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর অবশিষ্ট অংশ খনন করা হবে।

নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত বিভিন্ন সরকারের আমল থেকে চলে আসা বালু উত্তোলন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট বোর্ডের (ডব্লিউআইও) প্রকৌশলীদের সারাদেশের নদীগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে এবং কোনটি থেকে যাবে না, তা যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকাটি প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে। নদীভাঙন কিংবা অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে কোনো অবস্থাতেই সেখানে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

করতোয়া নদী খননের মধ্য দিয়ে বগুড়ার মানুষ নতুন ও রূপান্তরিত এক শহর দেখতে পাবেন – পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ষ্টাফ রিপোর্টার: করতোয়া নদী খননের মধ্য দিয়ে বগুড়ার মানুষ নতুন ও রূপান্তরিত এক শহর দেখতে পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি জানিয়েছেন, চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদীর খননকাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া মহানগরের এসপি ঘাট এলাকায় করতোয়া নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখননের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ছয় মাসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১০১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, করতোয়া, গজারিয়া ও ইছামতী নদী এবং সংশ্লিষ্ট খাল খননের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রায় ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২৯৪ কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হবে। প্রথম ধাপে ৬ কিলোমিটার খননকাজের মাধ্যমে প্রকল্পের সূচনা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ফিরে আসবে। পাশাপাশি বগুড়া মহানগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, করতোয়া নদীর দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর অবশিষ্ট অংশ খনন করা হবে।

নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত বিভিন্ন সরকারের আমল থেকে চলে আসা বালু উত্তোলন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট বোর্ডের (ডব্লিউআইও) প্রকৌশলীদের সারাদেশের নদীগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে এবং কোনটি থেকে যাবে না, তা যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকাটি প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হবে। নদীভাঙন কিংবা অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে কোনো অবস্থাতেই সেখানে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক।