০১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু-স্বাস্থ্য সুরক্ষার ৬ পদক্ষেপে বছরে বাঁচতে পারে ১৬ লাখ জীবন : ডব্লিউএইচও

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের সুফল পাওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা চালু এবং পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।

কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হল।

এ ছাড়া হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বাড়ানো, বাসা-বাড়িতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দাম নির্ধারণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মানেই স্বাস্থ্য সংকট।

তবে এর কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশই আমাদের হাতে থাকা উপায় ব্যবহার করে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট ছয়টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ‘তিন ধরনের সুফল’ পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে-মানুষের সুস্থ রাখা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রাণহানি ঠেকানোর পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পদক্ষেপগুলো থেকে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

পাশাপাশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাড়তি সুফল আসতে পারে।

ডব্লিউএইচও স্বীকার করেছে, গবেষণাটি উচ্চাভিলাষী কিছু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এ ছাড়া তথ্যের ঘাটতি এবং পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

তবে টেড্রোাস বলেন, প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলোর ব্যাপক বাস্তবায়ন লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। যাদের এ সহায়তা সবচেয়ে বেশি জরুরী, সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে সেই দেশগুলো।

আগামী সপ্তাহে তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বনেতাদের প্রস্তুতির মধ্যে  টেড্রোস তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু মোকাবিলার সব উদ্যোগের ‘কেন্দ্রে’ যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাখা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু-স্বাস্থ্য সুরক্ষার ৬ পদক্ষেপে বছরে বাঁচতে পারে ১৬ লাখ জীবন : ডব্লিউএইচও

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: জলবায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের সুফল পাওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

তাপপ্রবাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সতর্কতা ব্যবস্থা চালু এবং পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।

কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাওয়া কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হল।

এ ছাড়া হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস বাড়ানো, বাসা-বাড়িতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির দাম নির্ধারণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মানেই স্বাস্থ্য সংকট।

তবে এর কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশই আমাদের হাতে থাকা উপায় ব্যবহার করে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট ছয়টি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ‘তিন ধরনের সুফল’ পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে-মানুষের সুস্থ রাখা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

প্রাণহানি ঠেকানোর পাশাপাশি এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পদক্ষেপগুলো থেকে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

পাশাপাশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাড়তি সুফল আসতে পারে।

ডব্লিউএইচও স্বীকার করেছে, গবেষণাটি উচ্চাভিলাষী কিছু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এ ছাড়া তথ্যের ঘাটতি এবং পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়েছে।

তবে টেড্রোাস বলেন, প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী পদক্ষেপগুলোর ব্যাপক বাস্তবায়ন লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারে। যাদের এ সহায়তা সবচেয়ে বেশি জরুরী, সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে সেই দেশগুলো।

আগামী সপ্তাহে তুরস্কে কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বনেতাদের প্রস্তুতির মধ্যে  টেড্রোস তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, জলবায়ু মোকাবিলার সব উদ্যোগের ‘কেন্দ্রে’ যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে রাখা হয়।