০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে যেতে হবে: রাহুল গান্ধী

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: নির্বাচনী তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি এবং তেজস্বী যাদবসহ বিরোধী দলগুলোর এক ডজন নেতা দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জনাকীর্ণ রামলীলা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। রবিবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

একই সময়ে, ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারাও জাতীয় রাজধানীতে পাল্টা মিছিল করছেন এবং কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে আনছেন।

এরই মধ্যে, মধ্য দিল্লির ব্যস্ত কেনাকাটার এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে উৎসবের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ -এর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিরোধীদের এই প্রতিবাদস্থলটি একটি জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে অনেক পাইকারি ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে; তারা এখন নিজেদের ব্যবসা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন দলের কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কংগ্রেস উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং হরিয়ানা থেকে তাদের কর্মীদের নিয়ে এসেছে; এছাড়া সমাজবাদী পার্টি এবং আরজেডি-এর নেতারাও তাদের দলীয় কর্মীদের নিয়ে এসেছেন। তবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে বামপন্থী কর্মীদের উপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি।

সমাবেশে হিন্দিতে ভাষণ দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, “ভোটের এই চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি কণ্ঠস্বরের চুরি। একেই বলে দেশদ্রোহিতা।”

গত লোকসভা নির্বাচনকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।”

রাহুল গান্ধী বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে। ইভিএম-এর মাধ্যমে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোট চুরি করা হয়েছে্ ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে আমাদের (ইন্ডিয়া জোট) এবং (বিজেপি নেতৃত্বাধীন) এনডিএ-র মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল অবৈধ।”

২০২০-২১ সালের করোনা মহামারির প্রভাব নিয়ে তিনি অতীতে যা বলেছিলেন, তার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “আমি যা বলি, তা তো শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, তাই না?”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে যেতে হবে উল্লেখ করে রাহুল বলেন, “আর আমি ভারতের প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিটি তরুণকে বলছি: জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতে হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে যেতে হবে: রাহুল গান্ধী

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: নির্বাচনী তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি এবং তেজস্বী যাদবসহ বিরোধী দলগুলোর এক ডজন নেতা দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জনাকীর্ণ রামলীলা ময়দানে সমবেত হয়েছেন। রবিবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

একই সময়ে, ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারাও জাতীয় রাজধানীতে পাল্টা মিছিল করছেন এবং কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে আনছেন।

এরই মধ্যে, মধ্য দিল্লির ব্যস্ত কেনাকাটার এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে উৎসবের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ -এর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিরোধীদের এই প্রতিবাদস্থলটি একটি জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে অনেক পাইকারি ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে; তারা এখন নিজেদের ব্যবসা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন দলের কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কংগ্রেস উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং হরিয়ানা থেকে তাদের কর্মীদের নিয়ে এসেছে; এছাড়া সমাজবাদী পার্টি এবং আরজেডি-এর নেতারাও তাদের দলীয় কর্মীদের নিয়ে এসেছেন। তবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে বামপন্থী কর্মীদের উপস্থিতিই সবচেয়ে বেশি।

সমাবেশে হিন্দিতে ভাষণ দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, “ভোটের এই চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি কণ্ঠস্বরের চুরি। একেই বলে দেশদ্রোহিতা।”

গত লোকসভা নির্বাচনকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, আর অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।”

রাহুল গান্ধী বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট চুরি হয়েছে। ইভিএম-এর মাধ্যমে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোট চুরি করা হয়েছে্ ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে আমাদের (ইন্ডিয়া জোট) এবং (বিজেপি নেতৃত্বাধীন) এনডিএ-র মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল অবৈধ।”

২০২০-২১ সালের করোনা মহামারির প্রভাব নিয়ে তিনি অতীতে যা বলেছিলেন, তার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, “আমি যা বলি, তা তো শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, তাই না?”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে যেতে হবে উল্লেখ করে রাহুল বলেন, “আর আমি ভারতের প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিটি তরুণকে বলছি: জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতে হবে।”