০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ৩৩, অনেকেই আহত, দাবি হুতিদের

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি আরবের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৩ জন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি কর্তৃপক্ষ। রোববার তারা এ তথ্য জানায়। দেশটিতে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ।

ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বদিকে অবস্থিত আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

হুতিদের বার্তা সংস্থা সাবা শনিবার জানিয়েছে, হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চলছিল। এ সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করেছে তারা।

আল-আসবাহি বলেন, ‘চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, আটজন নারী ও ১৩টি শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ১৩টি শিশু রয়েছে।’

ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ হামলার স্থান আল-শারিয়া থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করে কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে। এতে হামলাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের স্তূপ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের দৃশ্যও দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। তবে হুতি কর্তৃপক্ষের এই হতাহতের দাবির বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদ প্রদেশ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে সৌদি সেনাদের অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তাদের ছয়টি সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তের উভয় পাশে অবস্থিত সৌদি সামরিক অবস্থান।

এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হন। এ হামলার জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করেছে হুতিরা। তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ওই বাজার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

দীর্ঘ কয়েক বছর আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করার পর গত জুলাইয়ে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে।

এরপর থেকে সৌদি আরব নিয়মিত হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুতিরাও তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৮:১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

সৌদি হামলায় ইয়েমেনে নিহত ৩৩, অনেকেই আহত, দাবি হুতিদের

আপডেট সময় : ০৮:১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি আরবের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৩ জন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুতি কর্তৃপক্ষ। রোববার তারা এ তথ্য জানায়। দেশটিতে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিন লাখেরও বেশি মানুষ।

ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বদিকে অবস্থিত আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন।

হুতিদের বার্তা সংস্থা সাবা শনিবার জানিয়েছে, হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চলছিল। এ সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করেছে তারা।

আল-আসবাহি বলেন, ‘চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, আটজন নারী ও ১৩টি শিশু রয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ১৩টি শিশু রয়েছে।’

ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসিরাহ হামলার স্থান আল-শারিয়া থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করে কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে। এতে হামলাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের স্তূপ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের দৃশ্যও দেখানো হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে সৌদি আরব। তবে হুতি কর্তৃপক্ষের এই হতাহতের দাবির বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রিয়াদ প্রদেশ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব এবং ইয়েমেনে সৌদি সেনাদের অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তাদের ছয়টি সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তের উভয় পাশে অবস্থিত সৌদি সামরিক অবস্থান।

এর আগে শুক্রবার ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হন। এ হামলার জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করেছে হুতিরা। তবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ওই বাজার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

দীর্ঘ কয়েক বছর আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করার পর গত জুলাইয়ে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে আবারও যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে।

এরপর থেকে সৌদি আরব নিয়মিত হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুতিরাও তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।