০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এগোচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: দীর্ঘদিনের জনবলসংকটে জর্জরিত দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক গতিতে ফেরাতে বড় পরিসরে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোট এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এই তথ্য জানান তিনি। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেও ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একই বিষয়ে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেছিলেন, সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এই কর্মীরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজনে রোগীদের যথাযথ স্থানে রেফার করার দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হবে মোট তিনটি ধাপে বিভক্ত করে। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রথম ধাপের আওতায় ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই ব্যাপক নিয়োগপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বিভাগ ও অধিদপ্তর একযোগে কাজ করছে। প্রতিটি ধাপে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্ধারিত ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইতিমধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

এই উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রদানের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে প্রণীত নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করেই এসব শূন্য পদে দ্রুততার সঙ্গে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে পূর্বে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বিভিন্ন মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, সেসব পদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহ করে পুনরায় সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান যেকোনো জটিলতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিষয়েও তাগাদা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশে মাঠপর্যায়ে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৬৫ হাজার ২৩০টি, যার বিপরীতে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ। এই শূন্য পদগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সহকারী পদের ৬ হাজার ৯৫৩টি শূন্যতা এবং পরিবারকল্যাণ সহকারী পদের ৮ হাজার ২৯৩টি শূন্য পদ। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক লালমনিরহাট জেলায়, যেখানে চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ পদই খালি পড়ে আছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সিএমএসডিতে মোট ২৩০টি পদের মধ্যে ১৬০টি পদই শূন্য রয়েছে। এই ব্যাপক জনবলসংকটের কারণে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৭:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এক লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এগোচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: দীর্ঘদিনের জনবলসংকটে জর্জরিত দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক গতিতে ফেরাতে বড় পরিসরে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোট এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এই তথ্য জানান তিনি। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকেও ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একই বিষয়ে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেছিলেন, সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। এই কর্মীরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজনে রোগীদের যথাযথ স্থানে রেফার করার দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা হবে মোট তিনটি ধাপে বিভক্ত করে। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রথম ধাপের আওতায় ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই ব্যাপক নিয়োগপ্রক্রিয়া বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বিভাগ ও অধিদপ্তর একযোগে কাজ করছে। প্রতিটি ধাপে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্ধারিত ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইতিমধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

এই উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রদানের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে প্রণীত নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করেই এসব শূন্য পদে দ্রুততার সঙ্গে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে পূর্বে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বিভিন্ন মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, সেসব পদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহ করে পুনরায় সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান যেকোনো জটিলতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিষয়েও তাগাদা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশে মাঠপর্যায়ে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৬৫ হাজার ২৩০টি, যার বিপরীতে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ। এই শূন্য পদগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সহকারী পদের ৬ হাজার ৯৫৩টি শূন্যতা এবং পরিবারকল্যাণ সহকারী পদের ৮ হাজার ২৯৩টি শূন্য পদ। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক লালমনিরহাট জেলায়, যেখানে চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ পদই খালি পড়ে আছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সিএমএসডিতে মোট ২৩০টি পদের মধ্যে ১৬০টি পদই শূন্য রয়েছে। এই ব্যাপক জনবলসংকটের কারণে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।