০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৮৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রতিনিধির নাম

ষ্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত স্বর্ণ এখনো উদ্ধার হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় বগুড়া জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের সাদিকুল ইসলাম (২০) ও আলমগীর হোসেন (৪৩) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুরের রবিউল ইসলাম (২৬) ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।

পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর সকালে বগুড়া শহরের গোলপট্টির শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খাইরুল ইসলামের খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেন (২৭) ১০টি স্বর্ণের বার নিয়ে বাসে জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন। বেলা আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথুলি এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে বাপ্পিকে বাস থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর তাঁকে আহত অবস্থায় শিবগঞ্জের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় ডিবির একটি দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে ২৯ লাখ টাকা, সাদিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, তিন আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি মাদক মামলা। উদ্ধার করা স্বর্ণ ও টাকার উৎস এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৭:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৮৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় : ০৭:০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ষ্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লুণ্ঠিত স্বর্ণ এখনো উদ্ধার হয়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় বগুড়া জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের সাদিকুল ইসলাম (২০) ও আলমগীর হোসেন (৪৩) এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুরের রবিউল ইসলাম (২৬) ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।

পুলিশ জানায়, গত ৫ অক্টোবর সকালে বগুড়া শহরের গোলপট্টির শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খাইরুল ইসলামের খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেন (২৭) ১০টি স্বর্ণের বার নিয়ে বাসে জয়পুরহাট যাচ্ছিলেন। বেলা আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথুলি এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামায়। পরে বাপ্পিকে বাস থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে তাঁর কাছে থাকা ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর তাঁকে আহত অবস্থায় শিবগঞ্জের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়। বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় ডিবির একটি দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বাড়ি থেকে ২৯ লাখ টাকা, সাদিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ লাখ টাকা এবং আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, তিন আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। লুণ্ঠিত স্বর্ণ উদ্ধার ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি মাদক মামলা। উদ্ধার করা স্বর্ণ ও টাকার উৎস এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।