০১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলএনজিতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ৬০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার

প্রতিনিধির নাম

বগুড়া নিউজ ২৪: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম ২০ ডলার হলে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ৬০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। চলতি বছর সরবরাহ বিঘ্নের কারণে এর চেয়েও বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হয়েছে। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানি টার্মিনালে বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এত ব্যয়ের পরও দেশে গ্যাস সংকট কাটছে না।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘এলএনজি-টু-পাওয়ার ইন ইমার্জিং এশিয়া: আ ফাইভ-ইয়ার রিভিউ অব প্রজেক্ট আউটকামস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পাশাপাশি ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের এলএনজিভিত্তিক প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর বাংলাদেশে তিনটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। তবে এলএনজি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে সরকারের ভর্তুকির বোঝা বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতেও বহিস্থ অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এরপরও এলএনজি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় দেশে গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে।

আইইইএফএর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, গত চার-পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নিজস্ব গ্যাসসম্পদের ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে।

আইইইএফএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এলএনজির দামে অস্থিরতা, প্রকল্প নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস টারবাইনের সংকট এবং ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই কারণে এসব প্রকল্পের জন্য ব্যাংকঋণ পাওয়াও কঠিন হচ্ছে।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও আইইইএফএর এশিয়াবিষয়ক এলএনজি ও গ্যাস বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার ডোলম্যান বলেন, এসব ঝুঁকির কারণে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জীবনকালজুড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ২০২১ সালের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম বেড়ে ২৭ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছায়। সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এ দাম প্রায় তিন গুণ। অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমছে। পাশাপাশি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময়েও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শফিকুল আলম বলেন, শুধু এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। নিজস্ব গ্যাসসম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হবে। শিল্পকারখানায় গ্যাসচালিত বয়লারের পরিবর্তে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন হিট পাম্প ব্যবহারের মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

এলএনজিতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ৬০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

বগুড়া নিউজ ২৪: আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম ২০ ডলার হলে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ৬০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। চলতি বছর সরবরাহ বিঘ্নের কারণে এর চেয়েও বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হয়েছে। এতে সরকারের ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানি টার্মিনালে বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এত ব্যয়ের পরও দেশে গ্যাস সংকট কাটছে না।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘এলএনজি-টু-পাওয়ার ইন ইমার্জিং এশিয়া: আ ফাইভ-ইয়ার রিভিউ অব প্রজেক্ট আউটকামস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পাশাপাশি ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের এলএনজিভিত্তিক প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর বাংলাদেশে তিনটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। তবে এলএনজি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চ ব্যয়ের কারণে সরকারের ভর্তুকির বোঝা বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতেও বহিস্থ অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এরপরও এলএনজি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় দেশে গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে।

আইইইএফএর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, গত চার-পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নিজস্ব গ্যাসসম্পদের ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে।

আইইইএফএর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এলএনজির দামে অস্থিরতা, প্রকল্প নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস টারবাইনের সংকট এবং ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই কারণে এসব প্রকল্পের জন্য ব্যাংকঋণ পাওয়াও কঠিন হচ্ছে।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও আইইইএফএর এশিয়াবিষয়ক এলএনজি ও গ্যাস বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার ডোলম্যান বলেন, এসব ঝুঁকির কারণে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জীবনকালজুড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ২০২১ সালের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম বেড়ে ২৭ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছায়। সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এ দাম প্রায় তিন গুণ। অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমছে। পাশাপাশি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ায় সর্বোচ্চ চাহিদার সময়েও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শফিকুল আলম বলেন, শুধু এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। নিজস্ব গ্যাসসম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হবে। শিল্পকারখানায় গ্যাসচালিত বয়লারের পরিবর্তে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন হিট পাম্প ব্যবহারের মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।