০১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ, ওষুধ সরবরাহ এবং চীনের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে চারটি দেশ—ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের জাহাজে বাধা দিচ্ছে না।

মোগাদ্দাম জানান, চার দেশের জাহাজকে ছাড় দেওয়ার পেছনে পারস্পরিক স্বার্থ ও বিশেষ কিছু বিবেচনা রয়েছে। ভারতের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ওষুধ সরবরাহকে। অন্যদিকে, চীনের জাহাজকে ছাড় দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, ভারতের ও চীনের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরানকে নির্ধারিত ফি দিতে হচ্ছে। তবে কাতারের জাহাজ বিনা মূল্যে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। ইরাকের জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরু জলপথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এই প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে প্রাণঘাতী হামলা শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। হামলা শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতে দেশটির ২৩ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন নাবিক। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় আরও পাঁচ ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুজন।

সূত্র: এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৪:৪০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান

আপডেট সময় : ০৪:৪০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক অর্থনৈতিক স্বার্থ, ওষুধ সরবরাহ এবং চীনের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোগাদ্দাম মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে চারটি দেশ—ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের জাহাজে বাধা দিচ্ছে না।

মোগাদ্দাম জানান, চার দেশের জাহাজকে ছাড় দেওয়ার পেছনে পারস্পরিক স্বার্থ ও বিশেষ কিছু বিবেচনা রয়েছে। ভারতের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ওষুধ সরবরাহকে। অন্যদিকে, চীনের জাহাজকে ছাড় দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।

তিনি আরও জানান, ভারতের ও চীনের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য ইরানকে নির্ধারিত ফি দিতে হচ্ছে। তবে কাতারের জাহাজ বিনা মূল্যে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে। ইরাকের জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরু জলপথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে এই প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে প্রাণঘাতী হামলা শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। হামলা শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতে দেশটির ২৩ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন নাবিক। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় আরও পাঁচ ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুজন।

সূত্র: এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক