০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও সরকার গঠনের দৌড়ে নেতানিয়াহু

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: ইসরাইলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে ফলাফল এমন হয়েছে যে, বিরোধীদের জন্য তাকে সরিয়ে সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২০ আসনের সংসদে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন।

আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের সরকার গঠন প্রায় অসম্ভব। তবে অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধী। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ জটিল হয়ে উঠেছে।

নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। প্রয়োজনে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এই দায়িত্বে থাকতে পারেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে লিকুদ সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।

ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ফলের প্রশংসা করে বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে অনেক সাহায্য করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আশা করেছিলেন, নির্বাচনে তার পরাজয় হলে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব কমবে। তবে নির্বাচনের ফল তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেনি।

বিরোধী নেতা আইজেনকোট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের ফল ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থানই তুলে ধরেছে। দেশটির মধ্য-বামপন্থী দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে।

এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যেও ভোটদানের হার বেড়েছে।

সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত ফল ও জোট গঠনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে ইসরাইলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও সরকার গঠনের দৌড়ে নেতানিয়াহু

আপডেট সময় : ০৮:২০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: ইসরাইলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে ফলাফল এমন হয়েছে যে, বিরোধীদের জন্য তাকে সরিয়ে সরকার গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর দেশটির তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২০ আসনের সংসদে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন।

আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের সরকার গঠন প্রায় অসম্ভব। তবে অধিকাংশ ইহুদি রাজনৈতিক দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধী। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ জটিল হয়ে উঠেছে।

নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। প্রয়োজনে আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এই দায়িত্বে থাকতে পারেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে লিকুদ সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।

ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ফলের প্রশংসা করে বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে অনেক সাহায্য করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আশা করেছিলেন, নির্বাচনে তার পরাজয় হলে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব কমবে। তবে নির্বাচনের ফল তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেনি।

বিরোধী নেতা আইজেনকোট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ও সরকারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের ফল ইসরাইলের রাজনীতিতে ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থানই তুলে ধরেছে। দেশটির মধ্য-বামপন্থী দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে।

এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যেও ভোটদানের হার বেড়েছে।

সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। চূড়ান্ত ফল ও জোট গঠনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে ইসরাইলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি।