০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রতিনিধির নাম

যমুনা নিউজ বিডি: মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন মাত্র ১৮ বছরের এক তরুণ। সম্মুখযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য যিনি পেয়েছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান। আজ ২৮ অক্টোবর তাঁর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। যদিও এই বীরশ্রেষ্ঠর নিজ জেলা ঝিনাইদহে বারবার অবমাননার শিকার হয়েছে তাঁর স্মৃতির স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমানের কাছে এসব ঘটনা শুধু একটি ভাস্কর্যের ওপর হামলা নয়; বরং তাঁর পরিবারের কাছে এটি গভীর বেদনার বলে জানান। হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের গ্রামে হামিদুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগারে ছোট পরিসরে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। তবে এ বছরই প্রথম ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন গ্রামে হামিদুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমাদের দাওয়াত দিয়েছে।’

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জুলাই ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ ও ভাস্কর্যটি একদল লোক টানা কয়েক দিন ধরে ভেঙে ফেলার কাজ করে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভাস্কর্য ভাঙার কাজ বন্ধ হয়। এ ছাড়া ৬ অক্টোবর সকালে ভাস্কর্যটিতে জুতা ঝুলতে দেখা যায়।

হামিদুর রহমানের জন্ম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে। তাঁর বাবা আক্কাস আলী মণ্ডল ও মা মোসাম্মাৎ কায়মুন্নেসা। তিনি ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীতে সিপাহি পদে যোগ দেন। পরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই সীমান্তে ২৮ অক্টোবর ভোরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেন হামিদুর রহমান।

ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে ভাস্কর্যটি সংস্কার ও রং করা হয়েছে। হামিদুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে তাঁর ভাস্কর্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ও মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৫ বার পড়া হয়েছে

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

যমুনা নিউজ বিডি: মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন মাত্র ১৮ বছরের এক তরুণ। সম্মুখযুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য যিনি পেয়েছিলেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান। আজ ২৮ অক্টোবর তাঁর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। যদিও এই বীরশ্রেষ্ঠর নিজ জেলা ঝিনাইদহে বারবার অবমাননার শিকার হয়েছে তাঁর স্মৃতির স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমানের কাছে এসব ঘটনা শুধু একটি ভাস্কর্যের ওপর হামলা নয়; বরং তাঁর পরিবারের কাছে এটি গভীর বেদনার বলে জানান। হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের গ্রামে হামিদুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগারে ছোট পরিসরে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। তবে এ বছরই প্রথম ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন গ্রামে হামিদুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং আমাদের দাওয়াত দিয়েছে।’

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ জুলাই ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ ও ভাস্কর্যটি একদল লোক টানা কয়েক দিন ধরে ভেঙে ফেলার কাজ করে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভাস্কর্য ভাঙার কাজ বন্ধ হয়। এ ছাড়া ৬ অক্টোবর সকালে ভাস্কর্যটিতে জুতা ঝুলতে দেখা যায়।

হামিদুর রহমানের জন্ম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে। তাঁর বাবা আক্কাস আলী মণ্ডল ও মা মোসাম্মাৎ কায়মুন্নেসা। তিনি ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীতে সিপাহি পদে যোগ দেন। পরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই সীমান্তে ২৮ অক্টোবর ভোরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে জীবন উৎসর্গ করেন হামিদুর রহমান।

ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল বলেন, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে ভাস্কর্যটি সংস্কার ও রং করা হয়েছে। হামিদুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে তাঁর ভাস্কর্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ও মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।